
“পৃথিবীর মানচিত্রে সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় এক বিস্ময়কর
ঘটনা ও অনন্য ইতিহাস।
আবহমান কাল থেকে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ যুগের পর যুগ, শতাব্দীর
পর শতাব্দী কখনো বা রাজা বাদশাহের হাতে, কখনো বেনিয়া ঔপনিবেশিক শাসকদের হাতে, আবার
কখনো বা বিজাতি বা স্বজাতি স্বৈরাচারী শাসক ও শোষক গোষ্ঠীর হাতে চরমভাবে নির্যাতিত
ও নিগৃহীত হয়ে আসছে। দেশ, রাষ্ট্র, শাসক ও ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে বারবার, কিন্তু মানুষের
ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি তেমন করে, যেমন করে তারা প্রত্যাশা করেছে। আশা ভঙ্গের বেদনা তাই
বারবার তাদের হতাশ করেছে, ক্ষুব্ধ করেছে। তবু বারবার তারা শুভ দিনের আশায় আবারও বুক
বেঁধেছে– প্রতিটি আন্দোলন, সংগ্রাম ও লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায়।
এমনি করে স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে
এই ভূখণ্ডের বাঙালিরা ১৯৭১ সালে এক সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ছিনিয়ে আনলো স্বাধীনতা– সৃষ্টি
হলো স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ– আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।
এই স্বাধীনতা হঠাৎ করে অর্জিত হয়নি। বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে
আওয়ামী লীগের ২৩ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার ফলশ্রুতি
এই স্বাধীনতা। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটেছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে। এই জাতীয়
চেতনার ক্রমবিবর্তনের ধারায় চুয়ান্নর নির্বাচনে জনগণের ঐতিহাসিক রায়, বাষট্টির আইয়ুববিরোধী
আন্দোলন, ’৬৬-র ছয় দফা আন্দোলন, কুখ্যাত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান,
’৭০-এর নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়, সর্বশেষে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা লাভ– প্রতিটি
ঐতিহাসিক লগ্নে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্ব জাতিকে জুগিয়েছিল অদম্য সাহস ও
অনুপ্রেরণা।”