
“১৯৭১
সালে সশস্ত্র স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামে লক্ষ লক্ষ মানুষের শহীদী আত্মত্যাগ ও বীরোচিত
লড়াইয়ের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। কিন্তু ৩৭ বছর পরও দেশের জনগণ স্বাধীনতার
প্রকৃত স্বাদ পায়নি। কারণ, স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে
দেশ পরিচালনা করে শাসক বুর্জোয়াশ্রেণি দেশ ও জাতিকে এক ভয়াবহ পরিণতির সামনে এনে দাঁড়
করিয়ে দিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী
পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে পড়ার দুইশত বছর পর পুঁজিবাদী
ব্যবস্থা চালু রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের শাসক বুর্জোয়াশ্রেণি জনজীবনে সংকটের পর সংকট জন্ম
দিয়ে চলেছে। স্বাধীনতাত্তোর তারা ৩ বার বড় ধরনের শাসন সংকটে পড়েছে। ১৯৭৫ সালে প্রথম
সংকট মোকাবেলায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতিকে সপরিবারে খুন করে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে তারা
তা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করেছে। ১৯৮১ সালে ২য় সংকটকালেও আরেক রাষ্ট্রপতিকে খুন ও সামরিক
শাসন জারি করে তা নিরসনের চেষ্টা হয়েছে। সংকট কমেনি বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে পরিস্থিতিকে
আরও জটিল করেছে। জনজীবনে দুর্ভোগ-দুর্দশা বাড়িয়েছে। পুনরায় ২০০৬ সালে এসে ৩য় এবং সবচেয়ে
বড় সংকটে পড়ে শাসকশ্রেণি। ১১ জানুয়ারি ২০০৭ জরুরি আইন জারি করে সেনা সমর্থনে ও নিয়ন্ত্রণে
তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে বহুল সমালোচিত কথিত সংস্কার কর্মসূচি
নিয়ে তারা এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজেছে। পথ পায়নি, সংকট কাটেনি। দায়সারা গোছের পরিস্থিতি
সামাল দেয়া হচ্ছে। এটাও আরেকটি মহাসংকটের দিকে দেশকে টেনে নিয়ে যাবে। তা ঘনীভূত হওয়া
সময়ের ব্যাপার মাত্র।”