
“বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের
ইতিহাস দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষার ইতিহাস। প্রায় দুই শতাব্দীর
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে
কৃষক-শ্রমিক-গণমানুষের ধারাবাহিক প্রতিরোধের পরিণতিতে ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশে রাষ্ট্র পুনর্গঠিত হয়, কিন্তু শোষণ ও বৈষম্যের অবসান
ঘটেনি। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বঞ্চনা, সাংস্কৃতিক দমন এবং রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে আরও দীর্ঘ ২৩ বছরের সংগ্রামের
ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম
হয়। সে সংগ্রামের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
কিন্তু স্বাধীনতার পরও ৫৫
বছর পরেও সেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়নি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের
দলীয়করণ, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি
ও বিচারহীনতা এক ধরনের শাসন-সংস্কৃতিতে পরিণত হয়, গণতন্ত্র সংকুচিত হয় এবং নাগরিক অধিকার বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে
একটি ফ্যাসিবাদী শাসনকাঠামো গড়ে ওঠে, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতাসীন স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে,
বিরোধী মত দমন, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যা, অর্থ পাচার এবং সর্বগ্রাসী দুর্নীতি একটি স্থায়ী কাঠামোগত রূপ নেয়। অন্যদিকে,
বিভাজিত, পরিবারতান্ত্রিক, জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতি দেশের মানুষকে দিশা দেখাতে ব্যর্থ হয়।
জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-শ্রমিক-জনতার
গণ-অভ্যুত্থান এই দীর্ঘদিনের অপশাসন ও ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে জনগণের ঐতিহাসিক রায়। এই গণ-অভ্যুত্থান কেবল সরকার পরিবর্তনের
দাবি ছিল না, এটি ছিল বারবার স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের জন্ম দেয়া পুরোনো বন্দোবস্তকে ভেঙ্গে ফেলা। হাজারো শহীদদের
আত্মত্যাগ ও আহতদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশ আমাদের সামনে একটি বড় দায়িত্ব দিয়েছে। সেই দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ
এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত করা।”